হংকংয়ে গুগল ও ফেসবুকের সেবা বন্ধের হুমকি

হংকংয়ের জাতীয় নিরাপত্তা আইনে ব্যক্তিগত তথ্যের গোপনীয়তা লঙ্ঘনের অভিযোগ এনে সেবা বন্ধের হুমকি দিয়েছে গুগল, ফেসবুক, টুইটার, অ্যাপল, লিঙ্কডিনসহ টেক জায়ান্টরা।

দ্য গার্ডিয়ানের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত ২৫ জুন এশিয়া ইন্টারনেট কোয়ালিশনের পক্ষ থেকে হংকংয়ের তথ্য নিরাপত্তা বিষয়ক কমিশনার এইডা চু লাই-লিং কে  এক চিঠিতে এই কথা জানানো হয়েছে।

এশিয়া ইন্টারনেট কোয়ালিশনের পরিচালক জেফ পেইনের ছয় পাতার চিঠিতে বলা হয়েছে, হংকংয়ের জাতীয় নিরাপত্তা আইন ব্যক্তিগত নিরাপত্তা তথা বাক স্বাধীনতাকে মারাত্মকভাবে বাধাগ্রস্থ করবে। এই আইনের বিধিনিষেধ আরোপ করা হলে হংকংয়ের নাগরিকরা বৈশ্বিক যোগাযোগ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়বেন।

টেক জায়ান্টরা হংকংয়ে বিনিয়োগ ও পরিষেবা বন্ধ করে দিলে ব্যবসায়ীরা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হবেন। এতে হংকংয়ে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে নতুন করে বিধিনিষেধ আরোপিত হতে পারে আশঙ্কা করছেন তারা।

২০২০ সালে চীনের পার্লামেন্টে জাতীয় নিরাপত্তা আইন পাস করে। নতুন আইনে রাষ্ট্রদ্রোহ, রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র এবং বিচ্ছিন্নতাবাদী কাজকর্ম নিষিদ্ধ করার জন্য কড়া পদক্ষেপের কথা বলা হয়েছে। সেই সঙ্গে জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থে হংকংয়ে ন্যাশনাল সিকিউরিটি এজেন্সি প্রতিষ্ঠার উল্লেখ রয়েছে।

চীন ও হংকংবাসীর মৌলিক স্বার্থে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে চীন দাবি করছে। উল্টোদিকে আন্দোলনকারীদের বক্তব্য, এই নতুন আইনটি   হংকংয়ের স্বায়ত্তশাসন এবং স্বাধীনতায় শেষ পেরেক পুঁতে দেবে।

সেই আইনের বিরুদ্ধে হংকংয়ে বিক্ষোভ চলছে আড়াই বছরেরও বেশি সময় ধরে। সেই বিক্ষোভের খবর ও নিবন্ধ ধারাবাহিক ছেপে যাওয়ায় হংকংয়ের প্রখ্যাত ট্যাবলয়েড পত্রিকা অ্যাপল ডেইলি বন্ধ করে দিয়েছে সরকার। গ্রেপ্তার করা হয়েছে পত্রিকাটির প্রকাশক ও সম্পাদককে।

২০১৯ সাল থেকে চলমান বিক্ষোভে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে গ্রেপ্তার করেছে চীন নিয়ন্ত্রিত হংকং সরকার,যার মধ্যে ১২৮ জন সাংবাদিক ও রাজনীতিবিদও রয়েছেন।

অভিযোগ রয়েছে, জাতীয় নিরাপত্তা আইনের বিরোধীদের ব্যক্তিগত ও প্রাতিষ্ঠানিক গোপনীয় তথ্য প্রকাশ করছে একটি পক্ষ। অনলাইন প্ল্যাটফর্মে  তাদের হত্যার হুমকি দেওয়া হচ্ছে বলে দাবি করেন বিক্ষুব্ধ নাগরিকরা।

মঙ্গলবার সকালে এক সংবাদ সম্মেলনে হংকংয়ের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ক্যারি লেম বলেন, আইনটি শুধুমাত্র বেআইনি কর্মকাণ্ডের তথ্যই জানাচ্ছে।  এ কার্যক্রমে ব্যাপক সমর্থনও রয়েছে। বাক স্বাধীনতা হরণ করা হচ্ছে বলে যে অভিযোগ করা হচ্ছে, তা সত্য নয়। আমরা ধারণা, টেক কোম্পানিগুলো আমাদের তথ্য নিরাপত্তাবিষয়ক কমিশনারের সঙ্গে কথা বলে খুশি হবেন।

রয়টার্স এ নিয়ে প্রশ্ন করলে ফেসবুক উত্তর দেয়নি। টুইটার বলেছে, এশিয়া ইন্টারনেট কোয়ালিশনকে এ বিষয়ে প্রশ্ন করতে। গুগল জানিয়ে দিয়েছে, তারা এর উত্তর দেবে না।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *